
বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত
- আপলোড সময় : ১৬-০৫-২০২৪ ১০:২৯:১১ পূর্বাহ্ন
- আপডেট সময় : ১৬-০৫-২০২৪ ১০:২৯:১১ পূর্বাহ্ন


বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ নন-লাইফ বীমাকারীসমূহের ‘ব্যবস্থাপনা ব্যয়’ নির্ধারিত সীমার মধ্যে রাখার বিষয়ে একটি মত বিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল বুধবার এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের চেয়ার?ম্যান মোহাম্মদ জয়নুল বারী ও সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স এসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট শেখ কবির হোসেন। সভায় বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের সকল সদস্য, নির্বাহী পরিচালক, বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স এসোসিয়েশনের মনোনীত প্রতিনিধিগণ, সকল নন-লাইফ বীমাকারীর চেয়ারম্যান/পরিচালকগণ উপস্থিত ছিলেন ।
মতবিনিময় সভায় নন-লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির ব্যবস্থাপনা ব্যয়ের বর্তমান অবস্থা উপস্থাপন করেন উপ-পরিচালক মো. সোলায়মান। উপস্থাপিত প্রতিবেদন মতে, ২০২২ সালে ৪১.৩০% নন-লাইফ বীমা কোম্পানিসমূহের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা ব্যয় হয়েছে। অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা ব্যয়ের খাতওয়ারী চিত্র পর্যালোচনা করলে দেখা যায় যে, অধিকাংশ কোম্পানির ব্যবস্থাপনা ব্যয়ের সর্বোচ্চ ব্যয় হয় উন্নয়ন কর্মকর্তাদের বেতন ও অন্যান্য ভাতাদি প্রদানে যা মোট ব্যবস্থাপনা ব্যয়ের ৮০%। বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ পরিদর্শন ও তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে পর্যালোচনা করে দেখা যায়, কোম্পানির আকারের তুলনায় অত্যধিক জনবলের কারণেই ব্যয় বেশি হয়। পারিবারিক সদস্য, আত্নীয়দের জনবলে নিয়োগ করা হয় যারা প্রকৃতপক্ষে কর্মরত থাকেন না। চাকরি না করেও বেতন-ভাতাদি খাতে উক্ত ব্যয় হিসেবে প্রদর্শন করা হয়। উক্ত সভার উন্মুক্ত আলোচনায় উল্লেখযোগ্য কিছু বিষয় তুলে ধরা হয়। বিভিন্ন কোম্পানীর চেয়ারম্যান, প্রতিনিধিগণ এ বিষয়ে বিভিন্ন প্রতিন্ধকতা এবং তা উত্তরণের জন্য পরামর্শ প্রদান করেন। আলোচনায় মূলত কোম্পানীর অনুমোদিত ব্যবস্থাপনা ব্যয় আইন অনুযারী সীমার মধ্যে রাখার ক্ষেত্রে কোম্পানির চেয়ারম্যানদের নিজেদের ইতিবাচক মানসিকতা দ্বারা নিজেদের সেক্টরকে উন্নত করার ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষকে সহযোগীতা করার ক্ষেত্রে অভিমত প্রকাশ করেন। কোম্পানির প্রতিনিধিগণ আরও জানান, কোম্পানিগুলো নিজেদের মধ্যে এক হীন প্রতিযোগীতায় লিপ্ত। তারা বীমা গ্রাহকগণকে অনিয়মতান্ত্রিকভাবে কমিশন/প্রিমিয়াম প্রদানে ছাড় দিয়ে থাকেন। যা আর্থিক বিবরণীতে ‘ব্যবস্থাপনা ব্যয়’ হিসেবে প্রতিফলিত হয়। এধারা বন্ধ হওয়া উচিত মর্মে সকল বক্তাগণ সভায় অভিমত পোষণ করে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের নিয়মতান্ত্রিক হস্তক্ষেপ কামনা করেন। সম্মানিত অতিথি শেখ কবির হোসেন বলেন, কোম্পানিসমূহের সম্পূর্ণ অটোমেশনের অন্তর্ভুক্তকরণ অনেকাংশে এই সমস্যার সমাধান হতে পারে। এছাড়াও ব্যাপক প্রচার প্রচারণা দ্বারা জনসচেতনা বৃদ্ধি করা উচিত বলে মনে করেন তিনি। সভার সভাপতি বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণকর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান সমাপনী বক্তব্যে বলেন, বীমা শিল্পের উন্নয়ন ও প্রসারে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ সর্বদা চেষ্টা করছে। প্রোডাক্ট ডাইভারসিটি, প্রোডাক্ত ডেভেলপমেন্ট এর জন্য বিভিন্ন সভা, সেমিনার এর আয়োজন করা হয় এবং স্টার্টআপ ইন্স্যুরটেক এর সাথে ডিজিটাল ভাবে নতুন নতুন বীমা প্রোডাক্ট এর ধারনা নেয়া হয়। এছাড়াও কৃষি বীমা, মৎস্য বীমা, গৃহয়ায়ন বীমা, ব্যাংকাসুরেন্স চালু করা হয়েছে। কোর সফটওয়্যারের ক্লাউড-এর মাধ্যমে কোম্পানিসমূহকে অটোমেশনে অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে এবং সম্পূর্ণভাবে অটোমেশনের আওতায় আনার জন্য চেষ্টা করা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, বীমাকারীর দায়িত্ব রিসার্চ ডেভেলপমেন্টের জন্য ব্যয়, ইনভেস্টমেন্ট করা, নতুন নতুন পলিসি উদ্ভাবন করা। মূলত বীমা শিল্পের সার্বিক উন্নয়নে বীমাকারীর ভূমিকাই মূখ্য। বীমাকারীর আইনের সঠিক চর্চা এবং ইতিবাচক মানসিকতার দ্বারা বিভিন্ন সম্যস্যার সমাধান করা সম্ভব । সেক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষ কর্তৃক সকল প্রকার সহযোগিতা দেয়া হবে বলে তিনি উপস্থিত সকলকে আশ্বস্থ করেন। - প্রেস বিজ্ঞপ্তি
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ